• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, 29 September 2026, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: 17 September, 2026
সর্বশেষ আপডেট : 17 September, 2026

গুগলে যে ৫ ধরনের তথ্য খুঁজতে বাড়তি সতর্কতা জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

ইন্টারনেটে কোনো তথ্য খুঁজতে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রথম পছন্দ গুগল। তবে সার্চ ফলাফলে কোনো ওয়েবসাইট বা তথ্য দেখালেই সেটি নিরাপদ কিংবা নির্ভরযোগ্য—এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতারকেরা ভুয়া ওয়েবসাইট, বিজ্ঞাপন, নকল কাস্টমার কেয়ার নম্বর ও ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহার করে গুগল সার্চের সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। গুগলও ব্যবহারকারীদের অপরিচিত লিংক ও ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের জন্য সরাসরি প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল উৎস ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।

বিশেষ করে নিচের বিষয়গুলো গুগলে খোঁজার সময় বাড়তি সতর্কতা জরুরি—

১. ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ার নম্বর

ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর, বিমান সংস্থা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাস্টমার কেয়ার নম্বর প্রয়োজন হলে শুধু গুগল সার্চের ফলাফলের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। প্রতারকেরা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ওয়েবসাইট বা ব্যবসায়িক তালিকায় নকল ফোন নম্বর দিতে পারে। সেই নম্বরে যোগাযোগের পর তারা ওটিপি, কার্ডের তথ্য, পাসওয়ার্ড বা অন্য গোপন তথ্য চাইতে পারে।

গুগলও কাস্টমার সেবা নম্বরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। অপরিচিত বিজ্ঞাপন বা লিংকে ক্লিক করার আগে ইউআরএল যাচাই করতেও বলেছে।

২. ক্র্যাকড বা মডেড সফটওয়্যার

দামি সফটওয়্যার বিনা মূল্যে ব্যবহারের আশায় ‘ক্র্যাকড’, ‘ফ্রি প্রিমিয়াম’ বা ‘মডেড’ সংস্করণ খুঁজলে ডিভাইসে ম্যালওয়্যার ঢুকে যেতে পারে। গুগলের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, জনপ্রিয় সফটওয়্যারের ‘ফ্রি’ বা ক্র্যাকড সংস্করণ খুঁজছেন এমন ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ম্যালভার্টাইজিং বা ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন চালানো হয়।

এসব ফাইল ইনস্টল করলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অ্যাকাউন্টে অননুমোদিত প্রবেশ কিংবা ডিভাইসে ক্ষতিকর সফটওয়্যার ইনস্টলের ঝুঁকি থাকে। তাই সফটওয়্যার ডাউনলোডের ক্ষেত্রে নির্মাতার অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করা নিরাপদ।

৩. রোগের লক্ষণ ও চিকিৎসা

মাথাব্যথা, জ্বর, বুকে ব্যথা বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার লক্ষণ গুগলে খুঁজে সম্ভাব্য রোগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেলেও সার্চ ফলাফলের ভিত্তিতে নিজে নিজে রোগ নির্ণয় বা ওষুধ গ্রহণ করা ঠিক নয়। অনলাইনের তথ্য সাধারণ হতে পারে এবং ব্যক্তির বয়স, শারীরিক অবস্থা বা অন্য রোগের সঙ্গে তা মিল নাও থাকতে পারে।

তাই গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অনলাইন তথ্যের পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪. দ্রুত ধনী হওয়ার উপায় বা নিশ্চিত মুনাফা

‘এক দিনে কোটিপতি’, ‘টাকা দ্বিগুণ’, ‘নিশ্চিত লাভ’ বা দ্রুত ধনী হওয়ার মতো বিষয় সার্চ করলে প্রতারণামূলক ওয়েবসাইট ও বিজ্ঞাপনে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। প্রতারকেরা বিনিয়োগের লোভ দেখিয়ে অগ্রিম টাকা, ব্যাংক তথ্য বা ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য চাইতে পারে।

গুগলের নিরাপত্তা পরামর্শেও অনলাইন প্রতারণার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া না করে তথ্য যাচাই এবং ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ পাঠানোর আগে বিষয়টি ভালোভাবে পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।

৫. নিজের গোপন বা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য

জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, কার্ড নম্বর, পাসওয়ার্ড বা ওটিপির মতো সংবেদনশীল তথ্য কখনোই গুগলের সার্চ বক্সে লেখা উচিত নয়। এসব তথ্য প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যাচাই করা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপে সরাসরি প্রবেশ করে দিতে হবে।

সার্চের সময় নিরাপদ থাকার কয়েকটি উপায়

গুগল সার্চের ফলাফলে অপরিচিত ওয়েবসাইটে ঢোকার আগে ইউআরএল যাচাই করা, সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন এড়িয়ে চলা এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে অফিশিয়াল উৎস ব্যবহার করা জরুরি। কোনো সার্চ ফলাফলের পাশে নিরাপত্তা সতর্কতা দেখালে সেটি উপেক্ষা না করাই ভালো। গুগল ক্রোমের Safe Browsing সুবিধা ম্যালওয়্যার, ফিশিং, ক্ষতিকর বিজ্ঞাপন ও সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক আক্রমণ সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে।

গুগলের Enhanced Safe Browsing চালু করলে বিপজ্জনক ওয়েবসাইট, ডাউনলোড ও ব্রাউজার এক্সটেনশন শনাক্তে আরও সক্রিয় সুরক্ষা পাওয়া যায়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—গুগল সার্চকে তথ্য খোঁজার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা গেলেও সার্চের প্রতিটি ফলাফলকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ভরযোগ্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে অর্থ, স্বাস্থ্য, পরিচয় ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে তথ্য ব্যবহারের আগে মূল বা অফিশিয়াল উৎস যাচাই করাই নিরাপদ।

আরও পড়ুন

  • তথ্যপ্রযুক্তি এর আরও খবর