গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা মূল্যের দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে বিজিবি ও পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিজিবির দাবি, মূর্তি দুটি পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে একটি চক্র নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ২০ বিজিবি জয়পুরহাট ব্যাটালিয়নের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি জানায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাখাহার ইউনিয়নের দইহারা গ্রামে অভিযান চালায় বিজিবি ও পুলিশের একটি যৌথ দল। অভিযানে একটি বাড়ি থেকে দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দইহারা গ্রামের আরিফ হোসেনের ছেলে আলিপ হোসেন (২২), একই গ্রামের বুরুজ মিয়ার স্ত্রী মোছা. সরজিনা আক্তার (৩০) এবং একই উপজেলার পন্ডিতপুর জিড়াই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে এনামুল হক (৫০)।
বিজিবির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, একটি সংঘবদ্ধ মূর্তি পাচারকারী দল কয়েক দিন ধরে পার্শ্ববর্তী দেশে পাচারের উদ্দেশ্যে মূল্যবান কষ্টিপাথরের কয়েকটি মূর্তি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মাত্রাই এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ সীমান্তবর্তী দইহারা গ্রামের একটি বাড়িতে রেখেছে।
তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দইহারা গ্রামের বাড়িটি থেকে দুটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া কষ্টিপাথরের মূর্তি দুটির মান নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে। পরে ডিজিটাল মেশিনে মূর্তিগুলোর ওজন করা হয়।
বড় মূর্তিটির ওজন প্রায় ১১৯ কেজি এবং ছোট মূর্তিটির ওজন প্রায় ১৬ কেজি ৮৭০ গ্রাম। অর্থাৎ দুটি মূর্তির মোট ওজন প্রায় ১৩৫ কেজি ৮৭০ গ্রাম।
বিজিবির সদর দপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া কষ্টিপাথরের মূর্তি দুটির আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৩৫ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।
গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :