গরমের সময়ের পাশাপাশি বর্ষাকালেও পেটের নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ সময়ে হজমের সমস্যা, পেটফাঁপাসহ বিভিন্ন অস্বস্তি থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। টক দই, ছাস, লস্যি ও ইয়োগার্টের পাশাপাশি তালিকায় রাখা যেতে পারে জনপ্রিয় পানীয় ‘আম্বালি’।
গাঁজন প্রক্রিয়ায় তৈরি হওয়ায় আম্বালিতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি হতে পারে। ফলে এটি হজমে সহায়ক এবং পেটফাঁপার মতো সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। রাগির তৈরি এই পানীয়তে ফাইবার, ক্যালশিয়াম ও আয়রনের মতো পুষ্টি উপাদানও রয়েছে।
আম্বালিতে থাকা ফাইবার হজমপ্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা ক্যালশিয়াম হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আয়রন শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। তাই সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হিসেবে আম্বালি খাওয়া যেতে পারে।
গাঁজন করা পানীয় হওয়ায় আম্বালি অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতেও সহায়ক হতে পারে। গরম আবহাওয়ায় পানীয়টি শরীরকে সতেজ রাখার জন্যও অনেকে পান করেন।
তবে কোনো নির্দিষ্ট রোগের চিকিৎসা হিসেবে আম্বালিকে বিবেচনা করা উচিত নয়। হজমের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা গুরুতর কোনো উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
আম্বালি তৈরি করতে প্রথমে ৪ থেকে ৫ টেবিলচামচ রাগির আটা এক কাপ পানিতে ভালোভাবে গুলে নিতে হবে। এরপর মিশ্রণটি একটি পাত্রে নিয়ে কম আঁচে ক্রমাগত নাড়তে হবে। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে চুলা থেকে নামিয়ে কিছুটা ঠান্ডা করতে হবে।
ঠান্ডা হওয়ার পর রাগির মিশ্রণটি জমাট বাঁধবে। এবার একটি পরিষ্কার পাত্রে পানি নিয়ে তার মধ্যে রাগির মিশ্রণটি দিয়ে দিতে হবে। পাত্রটি ঢেকে রাতভর তুলনামূলক উষ্ণ স্থানে রেখে দিতে হবে।
সকালে পাত্রের ঢাকনা খুললে পানির ওপর ফেনা দেখা যেতে পারে। এটি গাঁজন হওয়ার একটি লক্ষণ। এরপর কাঠের লাঠি, হুইস্ক বা উপযুক্ত কোনো সরঞ্জাম দিয়ে পানি ও রাগির মিশ্রণ ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
মিশ্রণটি ভালোভাবে মেশানোর পর এতে পরিমাণমতো সৈন্ধব লবণ ও টক দই যোগ করতে হবে। এরপর লস্যি তৈরির মতো করে আবার ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে।
সবশেষে গ্লাসে ঢেলে এর ওপর পেঁয়াজকুচি, ধনেপাতাকুচি ও জিরাগুঁড়া ছড়িয়ে পরিবেশন করা যায়। চাইলে কয়েক টুকরো বরফও যোগ করা যেতে পারে।
সহজে তৈরি করা যায় বলে গরম বা বর্ষার দিনে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয়ের তালিকায় আম্বালি রাখতে পারেন। তবে যেকোনো খাবারের মতো এটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
ফিনান্সিয়াল বার্তা/ এইচ
আপনার মতামত লিখুন :