• ঢাকা
  • বুধবার, 30 September 2026, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রকাশিত: 18 August, 2026
সর্বশেষ আপডেট : 18 August, 2026

কিয়ামতের দিন রাসুল (সা.)-এর শাফাআত লাভে যেসব আমল গুরুত্বপূর্ণ

অনলাইন ডেস্ক

কিয়ামতের দিন আল্লাহর অনুমতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতের জন্য শাফাআত করবেন। ইসলামী পরিভাষায় শাফাআত হলো কারো উপকার লাভের জন্য সুপারিশ করা অথবা কোনো ক্ষতি ও শাস্তি থেকে মুক্তির জন্য মধ্যস্থতা করা। তবে শাফাআত সম্পূর্ণভাবে মহান আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টির ওপর নির্ভরশীল।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে সুপারিশ করতে পারে?’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৫৫) অর্থাৎ কোনো নবী, ফেরেশতা বা অন্য কেউ নিজস্ব ক্ষমতায় শাফাআত করতে পারবেন না।

রাসুল (সা.)-এর শাফাআতের ধরন

কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সবচেয়ে বড় শাফাআত হবে ‘শাফাআতে কুবরা’। সেদিন মানুষ দীর্ঘ সময় কিয়ামতের ময়দানে অপেক্ষা করার পর হিসাব শুরু করার জন্য সুপারিশকারী খুঁজবে। একপর্যায়ে তারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আসবে। তিনি আল্লাহর কাছে সিজদায় পড়ে হিসাব শুরু করার জন্য সুপারিশ করবেন। (বুখারি, হাদিস : ৪৭১২)

এ ছাড়া আল্লাহর অনুমতিতে গুনাহের কারণে জাহান্নামে যাওয়া কিছু ঈমানদারকে সেখান থেকে বের করে আনা, যাদের নেকি ও গুনাহ সমান তাদের জন্য সুপারিশ, কিছু মুমিনের জান্নাতের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং জাহান্নামে যাওয়ার নির্দেশ পাওয়া কিছু মানুষের জন্য সুপারিশও তাঁর শাফাআতের অন্তর্ভুক্ত।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর চাচা আবু তালিবের শাস্তি হালকা করার জন্যও শাফাআত করবেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। তবে এ শাফাআতের মাধ্যমে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন না; বরং তাঁর শাস্তি তুলনামূলকভাবে হালকা হবে।

শাফাআত লাভের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি আমল

আজানের পর দোয়া পড়া: আজান শেষে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য ‘ওসিলা’ ও ‘মাকামে মাহমুদ’ প্রার্থনা করে নির্ধারিত দোয়া পড়া শাফাআত লাভের অন্যতম আমল। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আজান শুনে এই দোয়া পাঠ করবে, কিয়ামতের দিন সে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শাফাআত লাভের অধিকারী হবে। (বুখারি, হাদিস : ৬১৪)

বেশি বেশি নামাজ পড়া: হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশি বেশি নামাজ আদায়ের মাধ্যমে তাঁর শাফাআত লাভের বিষয়ে উৎসাহ দিয়েছেন। (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ১৬০৭৬; মুসলিম, হাদিস : ২০৮৭)

তাই শাফাআতের প্রত্যাশী একজন মুমিনের উচিত আল্লাহর প্রতি ঈমান ও আনুগত্য দৃঢ় করা, ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে পালন করা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করা। একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, শাফাআত কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নয়; এটি একান্তই আল্লাহর অনুমতি ও সন্তুষ্টির অধীন।

আরও পড়ুন

  • ধর্ম এর আরও খবর